দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুতে রুশ হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুতে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। হামলায় সেতুটির সড়কের কিছু অংশ ও ট্রলিবাসের ওপরের বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সেতুটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং শহরে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে কিয়েভের পিভদেননি (সাদার্ন) সেতুতে একাধিকবার রুশ ড্রোন হামলা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে দনিপ্রো নদীর ওপর থাকা কিয়েভের দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতুই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এসব সেতু রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্ব অংশের মধ্যে সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
শনিবার সকালে টেলিগ্রামে ক্লিৎসকো বলেন, পিভনিচনি সেতুতে হামলার পর জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। সেতুটিতে বাম তীর থেকে ডান তীরে যান চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের ড্রোন কিয়েভের ওই দুই সেতুতে হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, সেতু দুটি ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক, এমনকি কূটনীতিকদেরও কিয়েভ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।
সেতু দুটিতে হামলার পর দনিপ্রো নদী পারাপারে সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটেছে। অন্য রুটগুলোতেও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে দ্বিতীয় দিনের মতো কিয়েভের বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা দিয়েছে।
প্রায় ৩০ লাখ মানুষের শহর কিয়েভে এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাতায়াতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ মেট্রোর ওপর নির্ভর করেন। সেতুগুলোতে ধারাবাহিক হামলা হলে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হয়ে শহরটি কার্যত দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে পিভদেননি সেতুতে হামলার পর শুক্রবার কিয়েভের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল জরুরি বৈঠক করে। পরে ক্লিৎসকো বলেন, মস্কো শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা ও আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে খুবই গুরুতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ ড্রোন দিয়ে সেতু দুটি সরাসরি ধ্বংস করা কঠিন হলেও বারবার হামলার ফলে সেতু বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং এর কাঠামোগত সক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আরও শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করা হলে কোনো কোনো সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বহন করায় কিয়েভের কিছু সেতুর অবস্থা এমনিতেই দুর্বল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেতু ধ্বংস হয়ে গেলে যোগাযোগ সচল রাখতে ফেরি বা অস্থায়ী পন্টুন সেতু ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন ইউক্রেনীয় আইনপ্রণেতারা। সম্প্রতি কিয়েভের সেতুগুলোর অবস্থা নিয়ে বৈঠকে এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলার ক্ষেত্রে এখন কোনো নিয়ম মানছেন না। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সেতু, ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করতে চায়।
অন্যদিকে পুতিন দাবি করেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা দেশটির রুশ তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে হামলার জবাব। ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধের অর্থায়নে ক্রেমলিনকে সহায়তা করা রুশ তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। পুতিন নিজেও স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের তেল শোধনাগারে হামলার কিছু প্রভাব পড়েছে এবং এতে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়া দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে। শীত মৌসুমে এসব হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর নজির রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/